করোনায় বিপাকে নিউইয়র্কে মানুষের পাশে এক সাহসী বাঙ্গালী।

Must Try

মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা আসেনি চীন ও পাকিস্তান থেকে

৭০তম জন্মবার্ষিকীতে পদার্পণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৭ সেপ্টেম্বর গতকাল বৃহস্পতিবার জীবনের ৭০তম বার্ষীকিতে পা রাখলেন এই নেতা । এসময় জন্মদিবসে দেশ বিদেশের...

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে যা জানালো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয় নি। তবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কবে ও কীভাবে নেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত...

মা হারালেন অপু বিশ্বাস

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের মা মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অপুর মা শেফালি বিশ্বাস। অপু বিশ্বাসের সহকারী...

হিজাবধারী শিক্ষার্থী উপস্থিত হওয়ায় ডানপন্থী সাংসদদের বৈঠক ত্যাগ

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে হিজাবধারী মুসলিম নারী উপস্থিত হওয়ায় সংসদে অনুষ্ঠিত বৈঠক ত্যাগ করেছেন ফ্রান্সের ডানপন্থী রিপাবলিকান সদস্যরা। বৈঠকে ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের...

।।

বিজ্ঞাপন

মোতাসিন বিল্লা হোসেন ওরফে তুষার ২৮ বছর আগে মায়ের হাত ধরে আমেরিকা এসেছিলেন। ছেলেকে ভালো করে মানুষের মত মানুষ করবে বলেই আমেরিকায় এসেছিল তার মা। কিন্তু ছেলেটা কতটুকু মানুষ হয়েছে সেটা আর দেখা হয়ে ওঠেনি তার। ২০১২ সালে ছেলে তুষারের মাথায় হাত রেখে তার মা বলেছিলেন, ‘যেখানেই যাও, বিপন্ন মানুষের পাশে দাড়াতে কখনো পিছপা হবে না।’

সেই বিল্লা হোসেন তার মায়ের কথা রেখেছেন। নিজের জীবন বিপন্ন রেখেও সে এখন মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। বরং একবার নয়, বহুবার।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় হামলা হয়েছিল। প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল আমেরিকার শৌর্যবীর্য। নিউইয়র্কের সেই গ্রাউন্ড জিরোতে তখন মানুষের চিৎকার। তখনও অন্যদের সাথে এগিয়ে গিয়েছিল বিল্লাহ হোসেন।
আ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে ফার্স্ট রেসপন্সার হিসেবে গ্রাউন্ড জিরোতে একজন প্যারামেডিকস হিসেবে। তবে তখনকার ওই কঠিন সংকট মুহুর্তে কাজ করে অনেকটাই পালটে গেছিলেন বিল্লা হোসেন।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে নাকাল হয়ে যাওয়া নিউইয়র্কেও কাজ করছেন বিল্লা হোসেন। নগরীর আ্যাম্বুলেন্স কোম্পানি ‘আ্যাম্বলেনজ’ এ প্যারামেডিকস হয়ে ফার্স্ট রেসপন্সার হিসেবে কাজ করছেন তিনি দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা।

মৃত্যুপুরী নিউইয়র্কের অসহায়,
বিপন্ন নাগরিকেরা ফোন করেন সাহায্যের জন্য। আর বিল্লা হোসেনের মতো মানুষেরা আ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দ্রুত কড়া নাড়েন এসব অসহায় মানুষের দরজায়।

ফার্স্ট রেসপন্সার লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষক এখন বিল্লা হোসেন। যদিও তার শখ ছিল ফটোগ্রাফিতে। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সস্করন শুরু হলে এগিয়ে আসেন তিনি। স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে প্রথম আলো পত্রিকার জন্য ফটোগ্রাফি কিরেন। এম বি তুষার নামে তার ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়। কিন্তু অনেকেই জানেনা না বিল্লা হোসেন এখন কি করেন।

মার্চের শুরু থেকেই করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে থাকে নিউইয়র্কে। এই সমস্যা মোকাবিলায় হিমশিম খেতে থাকে নগরী। নগরীর মেয়ের, অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আাকুতি জানান সাস্থকর্মীদের, যেন তারা এগিয়ে আাসে। কিন্তু কারো আহবানের অপেক্ষা করেনি বিল্লা হোসেন। নিজের তাগিদেই ঝাপিয়ে পড়েছেন বিপন্ন মানুষের পাশে।

অসহায়, বিপন্ন করোনা রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আহবানে দ্রুত সাড়া দিয়ে কাজ করছেন দিন রাত। এত কর্মব্যস্তার মধ্যেও ১২ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে যোগাযোগ হয় বিল্লা হোসেন এর সাথে। তিনি জানান দীর্ঘ কর্মঘন্টার শিফট শেষ কিরছেন। গত কয়েকদিন নার্সিং হোমে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে ছুটতে হয় তাকে।

নিজের জীবনকে বিপন্ন মনে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তার দুই জন সহকর্মীর কথা। তিনি আরও বলেন,যতটা পারা যায় নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করছেন তিনি।।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে বিল্লা হোসেন বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অনেকের মুখেই মাস্ক ধরে রাখতে হয়। শ্বাসকষ্টএ ভুগছেন এমন অবেকঅনেক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর দেখা যায় বেড খালি নেয়। হাসপাতালের কড়িডরে অপেক্ষা করতে হয় অনেকক্ষন। ভেলিন্টেশনে গিয়ে কেউবা ফেরত আসছেন আবার কেউ আসছেন না। এত লাশের সাড়ি থেকে তিনি বিমর্ষ হয়ে পরেন। তবে এসবে আতংকিত না হয়ে কাজে ঝাপিয়ে পরেন।

বিল্লা হোসেন বলেন, করোনার রোগী বহন করার পর আ্যাম্বুলেন্স জীবাণু মুক্ত করতে ১ ঘন্টারও বেশি সময় লাগে। তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে, এমনকি নাইন-ইলেভেনের সময়ও হাসপাতালের এমন দৃশ্য কখনো দেখেনি বিল্লা হোসেন।

কাজ করতে ভয় হয় কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বিল্লা হোসেন বলেন, ‘ভয় হয় না বললে ভুল হবে। কিন্তু কাজটা কে করবে? যুদ্ধে তো ভয় থাকবেই এই কাজটি আমার, আমাকেই করতে হবে। এই বিবেচনায় প্রধান, পরিনামে কি হবে এই ভাবনা নিয়ে যুদ্ধে নামে না কোন সৈনিক। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে ডাক্টার, যে নার্স, যে স্বাস্থকর্মীরা মারা যাচ্ছেন, আক্রান্ত হচ্ছেন তারাও এই প্রশ্ন করেনি। করার সুযোগও নেই। এই দুর্যোগের সময় নিজের পেশার ডাক, নিজের দায়িত্বকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।’

কথোপকথনের এক পর্যায়ে বিল্লা হোসেনের কন্ঠ ধরে আসে, তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে প্রতি মুহুর্তে মনে পড়ে আমার মা বলে গিয়েছিলেন, বিপন্ন মানুষের পাশে দাড়াতে যেন কখনো পিছপা না হয়।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিনিয়ত নতুন খবর পেতে চোখ রাখুন ফেইজবুক পেইজে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সম্পর্কিত পোস্ট