বাড়ি ফেরায় পুরনো দূর্ভোগ

0
প্রতীকী ছবি

ঈদ মানেই খুশি;ঈদ মানেই আনন্দ।রাত পোহালেই আসন্ন ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ।করোনাভাইরাস মহামারীতেও ঈদের আনন্দ ভাগ করতে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন নিজ পরিবার বা গ্রামের উদ্দেশ্যে।

মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্যদের নিয়ে একটু খুশি ভাগ করাই যেনো মূল লক্ষ্য।

করোনায় দেশের পরিস্থিতি যেখানে অস্থবীর সেখানেও ঈদের আনন্দ ভাগ করার যেনো নেই কোনো সীমা।সেই সুবাদে ঢাকার বাসিন্দারা পাড়ি জমিয়েছেন নীড়ে ফেরার টানে।অনেকেই পৌছে গেছেন নিজ গন্তব্যে আবার অনেকেই আটকে আছেন যেনো পরিস্থিতির শিকার হয়ে।

তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জে।আজ শুক্রবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে অন্তত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়েছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা।এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা।পরিবারের সাথে
ঈদ করার আনন্দে যেনো হতাশার ছাপ পড়েছে যাত্রীদের!
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন রুট থেকে পাটুরিয়ায় ফেরি ঘাটে পারের জন্য আসা অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এ অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির জানান,সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
কিন্তু এই পরিস্থিতির শেষ কোথায় তা অজানা এখনো!
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যানজটে আটকে পড়া বাস-কোচের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর নিরুপায় হয়ে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছেন।পরিবারের সাথে কিছুটা সময় কাটানো আর এই করোনার পরিস্থিতে কেউ ভ্যান-রিকশা,হ্যালো বাইক, সিএনজিসহ ছোট যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা!

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবালয় সার্কেল তানিয়া সুলতানা জানান,ঢাকা বিভাগের পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঈদমুখী যাত্রী পারাপার ও ঘাটের পরিস্থিতি পরির্দশনে পাটুরিয়ায় আসেন।
আরো জানা গেছে,পাটুরিয়া ঘাট,উথলী মোড়,বরংগাঈল, বানিয়াজুড়ী,তরা,মূলজান, মানিকগঞ্জ,গোলড়া,নয়াডিঙ্গি, বাথুলী বাসস্ট্যান্ডে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আইন শৃংঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ,র‌্যাব, আনসার,ম্যাজিস্ট্রেট কঠোর অবস্থান নিলেও কোনো ফল মিলছে না।পণ্যবাহী ট্রাক, অভ্যন্তরীণ রুটের বাস, মিনিবাস,দূরপাল্লার কার-মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঈদের আগে-পরে তিনদিন পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার নিষেধ করা হলেও মালিক-চালকরা তা শুনছেন না।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও অন্যদের বেগ পেতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ঘাটে সহকারী ব্যবস্থাপক মহীদ্দিন রাসেল জানান, ছোট-বড় ১৫টি ফেরি দিয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। যদিও পদ্মায় প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। এ ছাড়া যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে ফেরিতে লোডিং করতে সমস্যা হচ্ছে।আবার অনেক সময় যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে ফেরিতে উঠে পড়ছে।যে কারণে অল্প সংখ্যক যানবাহন নিয়েই ফেরি ছাড়তে হচ্ছে চালকদের।

ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে সবাই নিরাপদে নিজ পরিবারের সাথে ঈদের খুশি ভাগ করে নিতে পারে সেই প্রত্যাশা ও দোয়া রাখছি।এবং যানবাহন চালক ও সড়কের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশকে এসব ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি যাতে করে ভোগান্তির শিকার না হয়ে হয় ঘরমুখো মানুষদের।

তাহেরা আক্তার;গাজীপুর প্রতিনিধি

রিপ্লে

মন্তব্য লিখুন!
নাম